আজ মহররমের ৮ তারিখ: প্রস্তুতির দিন

বরকতময় মহররম মাস—হিজরি বছরের প্রথম মাস এবং চারটি সম্মানিত মাসের একটি। এই মাস শুধু ইতিহাসের স্মৃতি নয়; বরং ইবাদত, তাওবা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক বিশেষ সুযোগ।

রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।” (সহীহ মুসলিম)

*আশুরার গুরুত্ব ও ফজিলত:*
মহররমের ১০ তারিখ (আশুরা) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, এটি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হবে।” (সহীহ মুসলিম)

সুন্নাহ অনুযায়ী, শুধুমাত্র ১০ তারিখ নয়—ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য পরিহারের জন্য এর সাথে আরও একটি দিন মিলিয়ে রোজা রাখা উত্তম।

*সুন্নাহ অনুযায়ী রোজা রাখার পদ্ধতি:*
– ৯ ও ১০ মহররম (বুধবার ও বৃহস্পতিবার, ২৪ ও ২৫ জুন ২০২৬)
– অথবা ১০ ও ১১ মহররম (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, ২৫ ও ২৬ জুন ২০২৬)
আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত—
– ১০ মহররম (বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬) রোজা রাখার চেষ্টা করুন।

*আজ (৮ মহররম): প্রস্তুতির দিন*
১. আশুরার *রোজার জন্য প্রস্তুতি* নিন।
২. *তাওবা ও ইস্তিগফার* করুন—নতুন হিজরি বছর নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ।
৩. কম হলেও *নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত* করুন।
৪. নফল *ইবাদত ও দোয়া* বৃদ্ধি করুন।
৫. বেশি বেশি *জিকির* করুন, বিশেষ করে:

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

*উচ্চারণঃ* লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বদীর।

*অর্থঃ* একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই; তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই; সমস্ত প্রশংসা তাঁরই; এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

আসুন, এই সুযোগ অবহেলায় না কাটিয়ে—নিজেদের গুনাহ মাফ, আমল বৃদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আমীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *